পশ্চিমারা বর্তমানে এগিয়ে। কি ক্ষমতা আর কি অর্থকড়ি। তারা সবখানেই কর্তৃত্ব দেখায়, এর যথার্থ কারণও বিদ্যমান। কারণ, তাদের পরিকল্পনা আবর্তিত হয় স্রেফ পার্থিব সফলতাকে ঘিরে। আর তাদের পরিকল্পনা হয় সুদূরপ্রসারী, এই যেমন, তারা এই একবিংশ শতাব্দীতে কী করবে, তা নির্ধারণ করেছিল সেই সপ্তদশ শতাব্দীতে। এ কথার অর্থ এই নয় যে, বৈজ্ঞানিক কি কি আবিষ্কার করা হবে তাও পূর্বনির্ধারিত। কারণ, বাংলাদেশের এক শ্রেণীর ধারণা যে পশ্চিমারা আমাদের কাছে সবকিছু প্রকাশ করেনা। তাদের মতে, আমেরিকা বা সার্নের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান হয়তো কোয়ান্টাম ফিল্ড, ঈশ্বর কণা ইত্যাদির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবিষ্কার করেছে, কিন্তু তারা সেসব প্রকাশ করেনা৷
যাইহোক, ধান বানতে রামের গীত, ব্যাপারটা ভালো ঠেকে না।
ওপরের এতসব কথা বলার কারণ একটাই। বর্তমানের এই পশ্চিমা প্রভাবাধিন বিশ্বে, ইতিহাসের প্রায় সবকিছুই তারা নিয়ন্ত্রণ করে৷ তারাই ইতিহাসের বিনির্মাণ করে চলেছে বিগত ৫০০ বছর ধরে। আর গত এক শতাব্দীতে তা আরও বেড়েছে৷ ওরা সভ্য। তারমানে এই নয় যে তারা সবসময়ই সত্য বলে। ইতিহাসকে বিকৃত করা তাদের মজ্জাগত স্বভাব।
“বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান” বইয়ের যুক্তিগুলোই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ, এই বইয়ে উত্থাপিত প্রশ্নসমূহ যথার্থ। আর এর কোনো জবাবই ক্যাথলিক বা প্রটেস্ট্যান্ট চার্চ কর্তৃপক্ষের কাছে নেই৷ তারা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসকে বিকৃত কিরে আসছিলো। আর সেসবের পক্ষে খোঁড়া সব যুক্তি দেখাচ্ছিল। যার আসলে কোনো মানেই হয়না। তারা নানানভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে গেছে যে ওল্ড টেস্টামেন্ট বা নিউ টেস্টামেন্টের (বাইবেল) কথাগুলো ওহী সম্বলিত এছাড়া বাকি যা আছে সেসব ভূয়া। তাই তারা নবী বংশের পরিচয় দিয়েছে মাত্র ২০ পুরুষের মধ্যে, সমগ্র পৃথিবীর ইতিহাস নির্ধারণ করেছে মাত্র ৪০০০ বছরে। তাদের দাবি অনুযায়ী এসবই ঠিক, বাকি সব ভুল৷ এমনকি তারা আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকেও মূল্যায়ন করতে ইচ্ছুক নয়, তারা আধুনিক সব আবিষ্কারও চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে সবসময়।
এমন অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে যে চার্চ কর্তৃক কিভাবে কত বিজ্ঞানীকে হেনস্থা করা হয়েছে৷ কিভাবে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
যাইহোক, এই বইয়ের যে সমস্ত যুক্তি লেখক দেখিয়েছেন, তাতে এটাই প্রতিপন্ন হয় যে বাইবেল বা ওল্ড টেস্টামেন্ট হিসেবে আমরা যাই দেখিনা কেন সেসব মানুষের মনগড়া রচনা যদিও কিছু কিছু ঐতিহাসিক সত্যতা আছে ,যেমন মহাযাত্রা বিষয়ক রচনা হুবহু কুরআনের সাথে মিলে যায়। তবুও বাইবেলে ইতিহাসের দিক থেকে প্রত্যাখানযোগ্য, মনগড়া রচনা, স্ববিরোধিতা ইত্যাদির অভাব নেই।
পক্ষান্তরে, কুরআনে কোন ত্রুটি নেই, আবার এমন easter egg এরও কমতি নাই যা আমাদেরকে ভবিষ্যতের দিকে ইশারা করে। যা বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে এটা বুঝতে যে জিনিশটার অস্তিত্ব আছে। কুরআন বিজ্ঞান চর্চার সমর্থক।
তবে, ইনি ইসলামেরও কিছু ত্রুটি উল্লেখ করেছেন। যেমন হাদীস। কারণ, হাদিস কোনো ঐশী গ্রন্থ নয়। হাদীস নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মুখ নিসৃত বাণী অথবা তার করা কাজের প্রতিলিপন মাত্র। নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)- যেটা করেছেন বা বলেছেন সেসব সংকলিত হয়েছে অনেক পরে, তাই সেখানে ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ভাগ্য ভালো এটাই যে মুসলিম পণ্ডিতগণ ব্যাপারটা উপলব্ধি করেছিলেন সেই হাজার বছর আগেই, তাই তখন থেকেই তারা সহীহ হাদিস প্রচারে সরব ছিলেন।
সর্বোপরি, ক্যাথলিক চার্চের আচরণে গত ৬ দশকে অনেক পরিবর্তন এসেছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গত ৭০ আর ৮০'র দশকে হয়েছে৷ তারা এটাও স্বীকার করে নিয়েছিল যে তারা ইসলামের নামে মিথ্যাচার করেছে। তারা কুরআনকে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিসবে স্বীকৃতিও দিয়েছে। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। তবুও বর্তমানে মিডিয়ার কল্যানে যে পরিমাণ মিথ্যাচার ইসলামের নামে ছড়ানো হচ্ছে, সেসব পীড়াদায়ক বৈ কি?
এই বইয়ে পাওয়া আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, “ইসরায়েল কোনো দেশ বা ভূমির নাম নয়, ইসরায়েল একটি সম্প্রদায়ের নাম।”
তাহলে বর্তমানে তারা কোন পবিত্র ভূমি নিজেদের দাবি করে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করছে?