Nahian's Reviews > পথের দাবী
পথের দাবী
by
by
শরৎচন্দ্র লিখতে চেয়েছিলেন তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা – তাই লিখেছেন কিন্তু লিখেছেন প্রবন্ধ আকারে নয়, উপন্যাস হিসেবে । এধরনের উপন্যাসে সচারচর যা ঘটে - দুটি চরিত্রের মাঝে কৃত্রিম আরোপিত দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের অবতারনা – পুরোদমে রয়েছে। বলাবাহুল্য, আমার কাছে সুখপাঠ্য মনে হয়নি।
কাহিনীর শুরু ‘অপূর্ব’ নামের একটি ছেলের মোটা মাইনের চাকরিতে রেঙ্গুন যাত্রা দিয়ে। এই গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণের “ম্লেচ্ছ” দেশে নিজের জাতপাত বাঁচিয়ে টিকে থাকা নিয়েই গল্প এগুচ্ছিলো। সকল দিক থেকে সংকীর্ণমনা এই অপূর্ব আবার স্বদেশী ও বটে। রেঙ্গুনে তার প্রতিবেশি এক ভারতীয় খ্রিষ্টান পরিবারের মেয়ে ‘ভারতী’ এর সাথে তার পরিচয় হয়। উল্লেখ্য, ভারতীর প্রকৃত পিতা ব্রাহ্মণ। যখন তার ভৃত্য অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন অপূর্ব সাংসারিক কাজে ভারতীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে আর ভারতী বিনাযুক্তিতে তার সেবা করতে শুরু করে । ব্যস, হয়ে গেল প্রণয় !
যাইহোক, এই ভারতীর সূত্র ধরেই অপূর্ব এসে পড়ে একেবারে বিপ্লবীদের দঙ্গলে। এই বিপ্লবী দলের চাঁই আবার একজন অতি-অতি অতিমানব। পুলিশের খাতায় তার নাম ‘সব্যসাচী’ আর সকলে ‘ডাক্তার’ বলে ডাকে। তিনি ডাক্তারি পড়েছেন জার্মানি থেকে; ইঞ্জিনিয়ারিং - ফ্রান্স; আইন – বিলেত; আবার একটি আমেরিকান ডিগ্রি ও আছে। এই বিদ্বান ব্যক্তি খালিহাতে দশজনকে ঢীট করে দিতে পারেন। সিরিয়াস উপন্যাসে এমন বালখিল্য সুপারহিরোর অবতারনা দুঃখজনক। যাহোক এই সুপারহিরোর জীবণের উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো – ভারতের স্বাধীনতা। বার্মা, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান এবং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপসমূহে তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য কি বিপ্লবী কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছেন তা বোধগম্য হয়নি।
ঊপন্যাসের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা জুড়ে রয়েছে ডাক্তার ও ভারতীর কথোপকথন । ভারতীর ন্যাকামো ধ্যাষ্টামো বিরক্তিকর লেগেছে। সর্ববিজ্ঞ ডাক্তার অসংখ্যবার “মুচকিয়া” হেসে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বয়ান দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো সম্ভবত শরৎচন্দ্রের নিজের। ডাক্তারের দেশ ও জাতির ধারনা বেশ ভালোভাবেই ধর্মাশ্রয়ী। মুসলমান তার কাছে বাঙালি বা ভারতীয় হয়না – কেবলি বহিরাগত। এক সময়ে বাহির থেকে আগত আর্যদের নিয়ে অবশ্য কোন বক্তব্য নেই। তবে সবচেয়ে মন্দ চরিত্রটি যে হিন্দু হলে ও অনার্য তা উল্লেখ আছে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংরেজ শাসনামলে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা এই উপন্যাসের সুখ্যাতির মূল কারণ। ঊপন্যসটি কালোত্তীর্ণ হয়নি; কালোত্তীর্ণ হয়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ।
কাহিনীর শুরু ‘অপূর্ব’ নামের একটি ছেলের মোটা মাইনের চাকরিতে রেঙ্গুন যাত্রা দিয়ে। এই গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণের “ম্লেচ্ছ” দেশে নিজের জাতপাত বাঁচিয়ে টিকে থাকা নিয়েই গল্প এগুচ্ছিলো। সকল দিক থেকে সংকীর্ণমনা এই অপূর্ব আবার স্বদেশী ও বটে। রেঙ্গুনে তার প্রতিবেশি এক ভারতীয় খ্রিষ্টান পরিবারের মেয়ে ‘ভারতী’ এর সাথে তার পরিচয় হয়। উল্লেখ্য, ভারতীর প্রকৃত পিতা ব্রাহ্মণ। যখন তার ভৃত্য অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন অপূর্ব সাংসারিক কাজে ভারতীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে আর ভারতী বিনাযুক্তিতে তার সেবা করতে শুরু করে । ব্যস, হয়ে গেল প্রণয় !
যাইহোক, এই ভারতীর সূত্র ধরেই অপূর্ব এসে পড়ে একেবারে বিপ্লবীদের দঙ্গলে। এই বিপ্লবী দলের চাঁই আবার একজন অতি-অতি অতিমানব। পুলিশের খাতায় তার নাম ‘সব্যসাচী’ আর সকলে ‘ডাক্তার’ বলে ডাকে। তিনি ডাক্তারি পড়েছেন জার্মানি থেকে; ইঞ্জিনিয়ারিং - ফ্রান্স; আইন – বিলেত; আবার একটি আমেরিকান ডিগ্রি ও আছে। এই বিদ্বান ব্যক্তি খালিহাতে দশজনকে ঢীট করে দিতে পারেন। সিরিয়াস উপন্যাসে এমন বালখিল্য সুপারহিরোর অবতারনা দুঃখজনক। যাহোক এই সুপারহিরোর জীবণের উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো – ভারতের স্বাধীনতা। বার্মা, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান এবং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপসমূহে তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য কি বিপ্লবী কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছেন তা বোধগম্য হয়নি।
ঊপন্যাসের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা জুড়ে রয়েছে ডাক্তার ও ভারতীর কথোপকথন । ভারতীর ন্যাকামো ধ্যাষ্টামো বিরক্তিকর লেগেছে। সর্ববিজ্ঞ ডাক্তার অসংখ্যবার “মুচকিয়া” হেসে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বয়ান দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো সম্ভবত শরৎচন্দ্রের নিজের। ডাক্তারের দেশ ও জাতির ধারনা বেশ ভালোভাবেই ধর্মাশ্রয়ী। মুসলমান তার কাছে বাঙালি বা ভারতীয় হয়না – কেবলি বহিরাগত। এক সময়ে বাহির থেকে আগত আর্যদের নিয়ে অবশ্য কোন বক্তব্য নেই। তবে সবচেয়ে মন্দ চরিত্রটি যে হিন্দু হলে ও অনার্য তা উল্লেখ আছে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংরেজ শাসনামলে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা এই উপন্যাসের সুখ্যাতির মূল কারণ। ঊপন্যসটি কালোত্তীর্ণ হয়নি; কালোত্তীর্ণ হয়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ।
Sign into Goodreads to see if any of your friends have read
পথের দাবী.
Sign In »
Reading Progress
April 5, 2020
– Shelved
Started Reading
April 6, 2020
–
Finished Reading

